ঢাকা ওয়াসা’র সাভার কেরানীগঞ্জ ওয়েল ফিল্ড প্ল্যান্টের SCADA ও অটোমেশন সিস্টেমের জরুরি সংস্কার এবং বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকীকরণ প্রসঙ্গে
১. পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা
সাভার কেরানীগঞ্জ ওয়েল ফিল্ড প্ল্যান্টের নিরবচ্ছিন্ন পানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল এর আধুনিক অটোমেশন এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং (SCADA) সিস্টেমের উপর। বিগত ২০১৮ সাল থেকে আইসিই টিম (ICE TEAM) অত্যন্ত সুনামের সাথে এই জটিল প্রযুক্তিটি পরিচালনা করে আসছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের শুরুতে প্ল্যান্টের স্থায়িত্ব ও সুরক্ষাকবচ হিসেবে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ “ইন্ডিভিজুয়াল ডিমান্ড লিস্ট” পেশ করা হয়েছিল। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, অর্থ বছর প্রায় শেষের দিকে উপনীত হলেও, উক্ত প্রস্তাবিত তালিকার কোনো মালামাল বা ব্যাকআপ ইকুইপমেন্ট আজ অব্দি কেনা সম্ভব হয়নি। এর ফলে বর্তমানে প্ল্যান্টের মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ অটোমেশন সিস্টেমটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার (Blackout) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।
২. চলতি অর্থ বছরের বাজেট ব্যবহার পর্যালোচনা
চলতি অর্থ বছরে এই প্ল্যান্টের সার্বিক উন্নয়নে প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি বিশাল বাজেট বরাদ্দ ছিল। তবে বাজেট ব্যয়ের খাতগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে:
- বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থই ব্যয় হয়েছে প্ল্যান্টের সৌন্দর্য বর্ধন, বাহ্যিক ডেকোরেশন ও কম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কাজে।
- অত্যন্ত সংবেদনশীল ও টেকনিক্যাল খাত—যেমন সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে FortiGate FG-3201F Network Firewall, ডাটাবেজের জন্য Dell PowerEdge R770 Server, এবং কোর কন্ট্রোলার হিসেবে Modicon M580 ePac Controller ক্রয়ের মতো অতি জরুরি ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
একটি পানি উৎপাদন প্ল্যান্টের বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে তার অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা এবং টেকনিক্যাল নিরবচ্ছিন্নতা রক্ষা করা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তির জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৩. কৌশলগত সুপারিশ ও আগামী অর্থ বছরের কর্মপরিকল্পনা
ভবিষ্যতে এ ধরনের কৌশলগত ভুল এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছর থেকে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি:
- অগ্রাধিকার ভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ (Priority-Based Allocation): আগামী অর্থ বছরের বাজেটে বাহ্যিক সৌন্দর্য বর্ধনের মতো নন-টেকনিক্যাল খাতের ব্যয় কমিয়ে, প্ল্যান্টের “লাইফ-লাইন” অর্থাৎ অটোমেশন, আইটি অবকাঠামো এবং ইনস্ট্রুমেন্টেশন খাতে সিংহভাগ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
- জরুরি ব্যাকআপ স্টক নিশ্চিতকরণ: 12-Core ADSS Fiber Optic Cable, বিভিন্ন ইনপুট/আউটপুট (DI/DO/AI/AO) কার্ড এবং নেটওয়ার্কিং সুইচের মতো যন্ত্রাংশগুলো যেকোনো সময় বিকল হতে পারে। তাই অর্থ বছরের শুরুতেই যেন এই মালামালগুলো ক্রয় করে স্টকে রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
- সঠিক সময়ে ক্রয় প্রক্রিয়া (Procurement Timeline) সম্পন্নকরণ: অর্থ বছরের শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতে, বছরের প্রথম প্রান্তিক (First Quarter)-এর মধ্যেই সব ধরনের জটিল টেকনিক্যাল মালামাল ক্রয়ের টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা প্রয়োজন।
সৌন্দর্য বর্ধন সাময়িকভাবে দৃষ্টিসুখকর হলেও, একটি মাত্র ছোট টেকনিক্যাল পার্টস বা সফটওয়্যার লাইসেন্সের অভাবে যদি কোটি কোটি টাকার এই প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যায়, তবে ঢাকা শহরের বিশাল একটি অংশের পানি সরবরাহ ব্যাহত হবে। এটি ঢাকা ওয়াসার ভাবমূর্তি এবং জনস্বার্থের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে।
অতএব, চলমান পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী অর্থ বছরে সঠিক জায়গায় সঠিক বাজেট বরাদ্দ প্রদান এবং টেকনিক্যাল টিম কর্তৃক জমাকৃত ডিমান্ড লিস্টের মালামালসমূহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ক্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষকে বিনীত অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
